সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহতদের পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যুর পর এ ঘোষণা দেওয়া হলো।

এদিন সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সেখানে থাকা কয়েকজন আক্রান্ত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে আরও দুজনের মরদেহ রয়েছে বলে জানান সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর। সবমিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন।

নিহতরা হলেন—সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর মোহাম্মদ মনসুর আলী (৫৫), মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন (৫১), পাবনার সুজানগরের আব্দুল আলীম সুজন (৩৬), গাইবান্ধার রানা মিয়া (২৩), সীতাকুণ্ডের হাবিবুর রহমান (৫১), পলাশ জলদাস (৩৫), সানি জলদাস (২৩), গাইবান্ধার খোকন মিয়া (২৩)। শরীফ নামের আরেক শ্রমিক চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি আগে এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংক ও অন্যান্য অংশ সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জাহাজের ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতি শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম সংবাদমাধ্যমকে জানান, এটি বিস্ফোরণের ঘটনা নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, “জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”