দুই এলএনজি টার্মিনাল চালু, বাড়লো গ্যাস সরবরাহ

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের টার্মিনাল সামিট পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হয়েছে।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “আজ ভোর চারটায় সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট ও এক্সিলারেট থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে।”

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানান, “দুটো টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে এখন। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।”

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল চারটায় হঠাৎ করে কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় এক্সিলারেট থেকে গ্যাস সরবরাহ। ত্রুটি মেরামতের পর ওই বয়লার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

এদিকে এলএনজি না পেয়ে গত সোমবার সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ভিটলের একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। এটি থেকে সন্ধ্যা সাতটায় সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে টার্মিনালের জমানো মজুত থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে সামিট। শুরুতে সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরারহ করা হয়। ভোররাতে এটি ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। আরও ৭-৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়াতে পারে তারা।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব। তবে স্বাভাবিক সময়েও রেশনিংয়ের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত শুক্রবার বিকালে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছিল প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে। দুটি টার্মিনাল চালু হওয়ায় তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। ফলে সংকটের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় এখনো দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।