পে স্কেলের খসড়া যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়, শীঘ্রই সিদ্ধান্ত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর জোর সুপারিশ রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের (২০২৬) জুলাই থেকেই নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে পে স্কেল সংক্রান্ত বিচার বিভাগের কিছু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল চালুর পর প্রায় এক দশক অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পে কমিশন সরকারের কাছে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।

খসড়া প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষমতা এখন মন্ত্রিসভার ওপর নির্ভর করছে।