সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতিক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’ বা নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পরপরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট তৈরির কাজ প্রায় শেষ। প্রজ্ঞাপন জারি করতে বেশি সময় লাগবে না।" একই সাথে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের সঙ্গে পে স্কেলের সম্পর্কের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, ঋণের সাথে নতুন বেতন কাঠামোর কোনো রূপ জটিলতা বা বিরোধিতা নেই।’’
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর ৫৫ বছরের ইতিহাসে এটি হতে যাচ্ছে নবম পে স্কেল। এর আগে ২০১৫ সালে সবশেষ অষ্টম পে স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যকার বেতন বৈষম্য দূর করতেই নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত পে স্কেলের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বিবরণী নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রথম পে স্কেল (১৯৭৩): ১০টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়।
দ্বিতীয় পে স্কেল (১৯৭৭): ২১টি গ্রেড চালু করে সর্বনিম্ন ২২৫ টাকা (৭৩% বৃদ্ধি) ও সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা (৫০% বৃদ্ধি) করা হয়।
তৃতীয় পে স্কেল (১৯৮৫): সর্বোচ্চ ১০০% এর বেশি বেতন বাড়ানো হয়। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা (১২২.২% বৃদ্ধি) এবং সর্বোচ্চ ৬,০০০ টাকা (১০০% বৃদ্ধি) নির্ধারিত হয়।
চতুর্থ পে স্কেল (১৯৯১): সর্বনিম্ন ৯০০ টাকা (৮০% বৃদ্ধি) এবং সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা (৬৭% বৃদ্ধি) করা হয়।
পঞ্চম পে স্কেল (১৯৯৭): সর্বনিম্ন ১,৫০০ টাকা (৬৭% বৃদ্ধি) এবং সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা (৫০% বৃদ্ধি) নির্ধারণ করা হয়।
ষষ্ঠ পে স্কেল (২০০৫): সর্বনিম্ন ২,৪০০ টাকা (৬০% বৃদ্ধি) ও সর্বোচ্চ ২৩,০০০ টাকা (৫৩% বৃদ্ধি) কার্যকর করা হয়।
সপ্তম পে স্কেল (২০০৯): সর্বনিম্ন ৪,১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০,০০০ টাকা স্কেল করা হয়।
অষ্টম পে স্কেল (২০১৫): সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বাড়িয়ে ৮,২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৮,০০০ টাকা করা হয়েছিল।
নবম পে স্কেলের বর্তমান অবস্থা: ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নবম জাতীয় পে কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্বে আসার পর কমিশন প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো পুনঃপর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল বিশেষ একটি কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার বার্তা মেলায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে খুব শীঘ্রই এটি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



