Sunday, August 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে মাসে ২০০ কোটি টাকা পাচার, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিকসহ চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

ডিবি প্রধান বলেন, “চক্রটি প্রতি মাসে একটা মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে জুয়া ও অবৈধভাবে আয় করে পাচার করে নিয়ে যেতো।”

তিনি আরও বলেন, “জব্দ করা ৬,০০০ সিম ও ২০টি ডিজিটাল গেটওয়ে ব্যবহার করে চক্রটি ভুয়া অফার ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।”

গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি। চীনা নাগরিকরা হলেন- লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)। গ্রেপ্তার বাংলাদেশির নাম ঝরনা চাকমা জিয়ানা (২৭)।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, “এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি অ্যাক্টিভ সিমকার্ড এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে সেখান থেকে ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ঝরনা নামের ওই নারী পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের ভাড়া দেন। চীনা নাগরিকরা সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছিলেন।”

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, চক্রটি সাধারণ মানুষের মোবাইলে বিভিন্ন লোভনীয় মেসেজ পাঠাত। মেসেজে নতুন অফার, চাকরির সুযোগ কিংবা বাড়তি আয়ের লিংক দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো। ভুক্তভোগীরা ওই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে যেতেন।

তিনি বলেন, “নজরদারি এড়াতে চক্রটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করত। তারা একটি মোবাইলের সঙ্গে একাধিক স্লট যুক্ত করে একসঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনা করত। ফলে ভুক্তভোগীরা টাকা খুইয়ে অভিযোগ করলেও প্রযুক্তি জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।”

   

About

Popular Links

x