পাকা চুল মানেই বৃদ্ধ মানুষ। এমন ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। কারণ পাকা চুল এখন শুধু বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অনেকেরই কম বয়সে চুলে পাক ধরছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারণে অকালপক্ব চুলের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সাধারণ মধ্য বয়সে চুলে পাক ধরা ধরা শুরু করে। তাই আপনার বয়স যদি ২০-এর ঊর্ধ্বে হয় তবে, চুলের যত্ন নিন এখনি। ঘরোয়া উপাদান চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু পাকা চুল স্থায়ীভাবে কালো করে দেওয়ার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
ঘরোয়া কিছু উপায়-
কারি পাতার হেয়ার মাস্ক
চুলের যত্নে কারি পাতা বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন: নারকেল তেলে কয়েকটি কারি পাতা দিয়ে হালকা আঁচে ফুটিয়ে নিন। তেল ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন। মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ায় ভালোভাবে মালিশ করুন। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।
চা পাতা ও কফির হেয়ার প্যাক
চা ও কফিতে থাকা প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান চুলে সাময়িকভাবে কালচে বা বাদামি আভা আনতে পারে।
যেভাবে বানাবেন: ২ চামচ চা পাতা, ২ চামচ কফি পাউডার ও ১ কাপ পানি একসঙ্গে ফুটিয়ে তাতে চা পাতা ও কফি মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি অর্ধেক পরিমাণ হয়ে এলে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। চুলে লাগিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরদিন শ্যাম্পু করলে ভালো।
আমলকি ও শিকাকাই হেয়ার প্যাক
আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
প্যাক তৈরির পদ্ধতি: ২ চামচ আমলকির গুঁড়ো, ২ চামচ শিকাকাই গুঁড়ো, প্রয়োজন মতো টক দই নিয়ে সব উপকরণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। চাইলে মিশ্রণটি কয়েক ঘণ্টা রেখে ব্যবহার করতে পারেন। এরপর চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
পেঁয়াজের রস ও লেবুর প্যাক
পেঁয়াজের রস চুলের যত্নে বহুল ব্যবহৃত একটি ঘরোয়া উপাদান। লেবুর রস মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন: একটি বড় পেঁয়াজের রস বের করুন। এর সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তুলোর সাহায্যে চুলের গোড়ায় লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।



