গর্ভাবস্থায় একজন নারীকে নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তবে, চিকিৎসকদের দেওয়া নিয়মাবলী বেশিরভাগ সময় মেনে চলা হয় না!
ডাক্তারদের দেওয়া নিয়মের মধ্যে একটি হলো, ঠান্ডা পানি পান করলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে কি না। ঠান্ডা পানি কি সত্যিই গর্ভের শিশুর কাছে পৌঁছায় কি না। এরকম নানা প্রশ্ন আমাদের মনে ঘুরপাক খায়।
এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বেশ আশ্বস্ত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কোনো প্রমাণিত প্রভাব নেই, কিন্তু এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা যে, ঠান্ডা পানি শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মা যে পানি পান করেন তার তাপমাত্রা তার রক্ত সঞ্চালনে শোষিত হয়। এবং যখন এটি জরায়ুতে পৌঁছায় ও প্ল্যাসেন্টা অতিক্রম করে শিশুর রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করে, ততক্ষণে এটি মায়ের শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
সহজ কথায়, আপনি যে ঠান্ডা পানি পান করেন তা আপনার শরীরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আপনাকে উষ্ণ করে তোলে। কোনো কিছু শিশুর কাছে পৌঁছানোর আগেই, আপনার শরীর সেটিকে একটি নিরাপদ তাপমাত্রায় আনার কাজটি করে ফেলে। ফলে শিশুটি আসলে ঠান্ডা অনুভব করে না।
গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা বেশ কয়েকটি সুবিধা আছে। যার মধ্যে- এটি মায়ের সুস্থ রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পর্যাপ্ত মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গর্ভে শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়তা করে। মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়, যা গর্ভাবস্থায় বেশি দেখা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ক্লান্তি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকরা দেখেছেন যে, বেশিরভাগ গর্ভবতী নারী দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অপর্যাপ্ত পানি পানের সমস্যায় ভোগেন।
তবে, ডাক্তার-চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পানের পরামর্শগুলো সাজানো উচিত।



