আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, নারী দিবসের কথা-ইতিহাস আমরা জেনে থাকলেও একটা অজানা দিবস হচ্ছে- ‘বিশ্ব নরসুন্দর দিবস’। এ দিবসের কথা অনেকেরই অজানা। তবে, এই দিবসের শুরু কোনও আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস থেকে নয় বরং দাতব্য-মানবিক উদ্যোগ থেকে। এ ভাবনায় তাদের অন্যতম সহযোগী ‘ইউনিসেফ’।
আজ ১৬ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব নরসুন্দর দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের পেশাকে কাজে লাগিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন স্থানে নরসুন্দর দিবস পালন করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ইউএ নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দিনটির বিশেষত্ব হলো- এতে নাপিতদের সম্পূর্ণ নতুন বা অভিনব কোনও আয়োজন করতে হয় না। তারা সাধারণ দিনের মতোই গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকেন এবং নিজেদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম চালিয়ে যান।
তবে, তাদের একটি বিশেষ কাজ করতে হয়- তা হচ্ছে, এই দিনটিতে নাপিতরা গ্রাহকদের কোনও দাতব্য কাজে অবদান রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এভাবেই, তারা চুল কাটা বা শেভ করার মতো একটি সাধারণ কাজের পাশাপাশি বৃহত্তর কোনও মানবিক উদ্যোগের অংশ হয়ে উঠেন।
এদিন বিশ্বের নাপিতদের কাছে আবেদন জানানো হয়, তারা যেন নিজেদের এক দিনের উপার্জন যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বিভিন্ন সংকটে থাকা শিশুদের কল্যাণে দান করেন।
নাপিতরা মনে করেন, তাদের কাছে চুল কাটার চেয়ার মানবিক সহায়তার একটি প্রতীক। তারা নিজেও দান করেন সঙ্গে গ্রাহকদের মানবিক কাজে অংশ নিতে আহ্বান জানান।
যেভাবে আসলো বিশ্ব নরসুন্দর দিবস
নাপিতদের বৈশ্বিক ওয়েবসাইট ও সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড বারবার ডে’-র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের সফল ‘গ্রাফটন বারবার’ চেইন শপের মালিক দুই ভাই- হিউ এবং কনর ম্যাকঅ্যালিস্টার এই উদ্যোগটি শুরু করেন। আজও এখান থেকেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিশ্ব নরসুন্দর দিবসের মূল দর্শন হচ্ছে- ভালো কিছু করার কাজে নিজের দক্ষতা ও পেশাকে কাজে লাগানো।
বৈশ্বিক দাতব্য সংস্থা ‘ইউনিসেফ’ বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রতিটি শিশুর অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আয়ারল্যান্ডসহ বিশ্বের বহু নাপিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ইউনিসেফের কার্যক্রমে সহায়তা করে।
বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশে দিবসটির উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আয়ারল্যান্ডের একটি সাধারণ নাপিতের দোকান থেকে জন্ম নেওয়া একটি বিশেষ দিন আজ পেশাজীবী নাপিতদের আন্তর্জাতিক মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
নাপিত বা ক্ষৌরকর্মের ইতিহাস হাজার বছর আগের
সেলুনে কর্মরত শ্রমিকদের নাপিত বলা হয়। এই নাপিত বা ক্ষৌরকর্মের ইতিহাসের শিকড় হাজার হাজার বছর আগের প্রাচীন মিশরে প্রোথিত। বর্তমানে নাপিতের দোকান বা সেলুনগুলোকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, আরাম এবং নিজের যত্ন নেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু অতীতে এর সামাজিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। একসময় নাপিতরা তামা, ব্রোঞ্জ এবং ফ্লিন্ট বা তীক্ষ্ণ পাথর দিয়ে তৈরি রেজর, কাঁচি ও চিরুনি ব্যবহার করতেন।
শরীর সৌন্দর্যের বিষয়ে আমরা প্রত্যেকই কমবেশি সচেতন। নিজের যত্ন নেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে সেলুনের সঙ্গে সবারই নিয়মিত যাতায়াত থাকে।
একজন নরসুন্দর মানুষকে বাহ্যিক রূপসজ্জার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং নিজের ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার বিষয়েও আগ্রহী করে তুলেন।
প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থেকে সেবা দেওয়া, বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা পূরণ করা নাপিতদের দৈনন্দিন কাজ। তবুও সমাজে তাদের অবদান প্রায়শই অবমূল্যায়িত হয়। অথচ নীরবে, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা এসব সৃজনশীল মানুষদের আমাদের প্রত্যেকের সম্মান জানানো উচিত।



