Wednesday, September 16, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আসক: সাত মাসে ৬৪১ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার

এর মধ্যে নারী ধর্ষণের ঘটনা ৪০০টি এবং শিশু ধর্ষণের ঘটনা ২৪১টি

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই এই সাত মাসে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের মোট ৬৪১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এর মধ্যে নারী ধর্ষণের ঘটনা ৪০০টি এবং শিশু ধর্ষণের ঘটনা ২৪১টি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে "নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার ও সেবা প্রদান জোরদারকরণ" শীর্ষক এক সংলাপে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে আসক।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি এবং ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ১৫২টি। এ ছাড়া শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মোট ৬০৬টি ঘটনার মধ্যে ২৪১টি ধর্ষণ ও ২১৩টি শিশু হত্যার ঘটনা রয়েছে। নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১৯১টি। মানব পাচারের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি জানান, ২০২৫ সালে এ সংক্রান্ত ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিচারাধীন বা তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২৮৪টি।

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নারী ও শিশু সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা থাকলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সহজ প্রাপ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষত গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ আইনি সহায়তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না জানায় প্রয়োজনের সময় সেবা নিতে পারছেন না।

তাহমিনা রহমান বলেন, “আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের মতো সেবা থাকলেও এগুলো অনেক সময় বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় ভুক্তভোগীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ঘুরতে হয়, যাতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হয়।“

সংলাপে উপস্থাপিত মূল নিবন্ধে জাতীয় আইনি সহায়তা অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন সংস্থাটির মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও সচেতনতামূলক সেবা পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ হাজার ২২২ জন সুপ্রিম কোর্ট আইনি সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে এবং ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন দেশের ৬৪ জেলা আইনি সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন।

তবে আবেদনপ্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়া, অনুমোদনকারী কমিটির অনিয়মিত সভা, আপিল প্রক্রিয়ার ব্যয়বহুলতা এবং গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে এসব সেবা গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে মূল নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

দেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য ৯৫টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থাকলেও প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসা, ফরেনসিক, আইনি ও মনোসামাজিক সহায়তার সমন্বিত ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজমিন সুলতানা বলেন, “নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার লঙ্ঘিত না হওয়াই প্রকৃত সুরক্ষা। তবে অধিকার লঙ্ঘিত হলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ।“

সংলাপে আরও অংশ নেন জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের ডেপুটি টিম লিডার ক্যাটরিনা কইনিগ, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভি আক্তার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি কো-অর্ডিনেটর তাইয়েবা সুলতানা এবং নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কামরুন্নাহারসহ অনেকে। সংলাপে সেবা প্রাপ্তি আরও সহজলভ্য ও সমন্বিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ উত্থাপন করা হয়।

   

About

Popular Links

x