ঢাকার কেরানীগঞ্জে দিনদুপুরে কুপিয়ে ও গুলি করে ফরহাদ হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, “পূর্ব শত্রুতার জেরে” এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং নিহত ফরহাদ মোহাম্মদপুর-রায়েরবাজার এলাকার কিশোর গ্যাং “পাটালি গ্রুপের” সদস্য ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, “ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও গুলিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।“
নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ মাছ ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। দুপুরে বসিলা ব্রিজ-সংলগ্ন আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন তিনি। সাকিবের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে কয়েকজন মিলে ফরহাদের ওপর হামলা চালায়; তাকে গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পিস্তল ও চাপাতি হাতে কয়েকজন যুবক একটি স্থাপনায় ঢুকছেন। কিছুক্ষণ পর দুজন দৌড়ে বের হয়ে যান। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় একজনকে টেনে বাইরে আনা হয় এবং তিনি বাঁচার চেষ্টা করলেও দুজন তাকে ধরে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে।
ফরহাদ ভোলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সঙ্গে তিনি কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে থাকতেন।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে “এলেক্স গ্রুপের” হোতা ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার কয়েকজন এখনো কারাগারে আছেন।



