Wednesday, July 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লিপস্টিক: নারীর সাজগোজ আত্মবিশ্বাস ও প্রতিবাদের ভাষা

বিশ্বের বহু দেশে পুরুষদের সাজগোজের তালিকায় লিপস্টিকও অন্যতম প্রসাধনী 

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

আহমদ ছফা তার এক আত্মজৈবনিক এবং মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে বলেছেন, ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’...। তার ভাষ্যমতে, নারী শুধু দেবী নয়, নারীই ঈশ্বরী। নারীকে সৌন্দর্য (এখানে, সৌন্দর্য বলতে বাহ্যিক রূপ নয়), ভালোবাসা আর শিল্পে বাধা যায়। কারণ, নারী ভালোবাসতে জানতে, ভালো রাখতে জানে। 

আয়নার একপাশে সাজগোজ করা আত্মবিশ্বাসী নারী যেমন- সৌন্দর্য্যের প্রতীক, তেমনি আয়নার প্রতিচ্ছবিতে- নারী প্রতিবাদী এবং মহাশ্বেতা দেবীর ‘দ্রৌপদী’। 

নারীর সাজগোজ শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী উপায়। নারীর টিপ, নারীর চোখ মনে করিয়ে দেয় পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহসের গল্প। 

প্রতিটি নারী বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে শেষবারের মতো আয়নায় তাকান। শুধু নারী নন, পুরুষরাও আয়নায় অভ্যস্ত। মনোবিদরা মনে করেন, প্রতিটি মানুষের সৌন্দর্য এবং হাসিখুশি মনোভাব মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়। 

বিভিন্ন জরিপ বলছে, প্রতি চারজন নারীর একজন মনে করেন লিপস্টিক, টিপ (সাজগোজ) ছাড়া বাইরে বের হওয়া মানে নিজের কিছু একটা অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া। শুধু নারী নয়, বিশ্বের বহু দেশে উচ্চ শ্রেণির পুরুষদের সাজগোজের তালিকায় লিপস্টিকও অন্যতম প্রসাধনী। 

তবে, লিপস্টিক কেবল ঠোঁট রাঙানোর প্রসাধনী নয়। অনেকের কাছে এটি আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। কারও কাছে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি চিহ্ন। আবার কারো কারো মন খারাপের দিনে প্রিয় লাল রঙের লিপস্টিক ভালোবাসার মাধ্যম। 

তবে, এসবের বাইরেও লিপস্টিক প্রতিবাদের ভাষা। ইতিহাসের তথ্য বলছে, ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নারী ভোটাধিকারের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক নারী লাল লিপস্টিক ব্যবহার করেছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে। দেশে দেশে নারীবাদী লড়াই-সংগ্রামে অংশ নেওয়া নারীরা রঙিন পোশাক, সাজগোজের মাধ্যমে প্রতীকী প্রতিবাদ জানায়। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এক ভাষণে বলেছিলেন, লিপস্টিক মানুষের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে!  

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান খলনায়ক জার্মানির শাসক অ্যাডলফ হিটলার লিপস্টিক (লাল লিপস্টিক) সহ্য করতে পারতেন না। সেময়ে লাল লিপস্টিক ছিল ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধের বিপ্লবের রং। 

তবে, এটা জেনে রাখা ভালো- লাল লিপস্টিক শুধু ‘পতিতাবৃত্তি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীরা ব্যবহার করতেন ব্যাপারটা এমন নয়! লাল লিপস্টিক সব শ্রেণির মানুষের সৌন্দর্যের ও লড়াইয়ের বাহক। মিসরীয় অঞ্চলের সংস্কৃতি কর্মীরা লাল লিপস্টিককে ‘অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। 

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কঠোর পোশাক নীতির বিরোধীতাকারী ও নারীবাদী আন্দোলনকর্মী মাশা আমিনি নিজের সাজগোজ ও লিপস্টিককে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতেন। 

মাশা আমিনি

লিপস্টিক এখন খুবই স্বাভাবিক একটি প্রসাধনী হলেও এর পিছনের গল্প অনেক লম্বা। লিপস্টিকের ইতিহাস অনেক পুরোনো। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে মানুষ গাছের শিকড়, ফলের রস, মোম, মাটি, পাথরের গুঁড়ো ও নানা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঠোঁট রাঙাত। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বাহ্যিক, মানসিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে জড়িত তারই জীবন্ত উদাহরণ লিপস্টিকসহ বিভিন্ন প্রসাধনী। 

লিপস্টিক দিবস অনেকেই হয়তবা সাজগোজ করে উদযাপন করবেন। তবে, ফ্যাশন, পোশাক, সাজগোজ শুধু দিবস উদযাপনে নয়, সাজগোজ থাকুক প্রতিবাদের ভাষা হয়ে। 

   

About

Popular Links

x