রূপচর্চা শুধু নারীদের জন্য নয়, সুস্থ ও সুন্দর ত্বক ধরে রাখতে পুরুষদেরও নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ৩০ বছর পার হওয়ার পর ত্বকে নানা পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদেরও ত্বকের যত্নে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ, এ সময় ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন কমতে শুরু করে, আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সূক্ষ্ম বলিরেখা, রুক্ষতা ও বয়সের ছাপ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে।
পুরুষদের ত্বকে যেসব সমস্যা বেশি দেখা যায়
দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, দূষণ, ধূমপান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক পুরুষদের ত্বকে কোন সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়-
তৈলাক্ত ত্বক
পুরুষদের মধ্যে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের কারণে ত্বকের ছিদ্রে সহজেই ধুলাবালি, ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া জমে। সময়মতো পরিষ্কার না করলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডসসহ নানা ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী পরিচর্যা করা জরুরি।
ট্যানের সমস্যা
অনেক পুরুষ নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না। ফলে দীর্ঘ সময় রোদে থাকার কারণে ত্বকে ট্যান বা কালচে ভাব তৈরি হয়। এ সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
শুষ্কতা ও ডার্ক প্যাচ
নিয়মিত শেভ করার কারণে অনেকের ত্বকে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া বা ডার্ক প্যাচের সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন শেভিং ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে এসএলএসমুক্ত বা মৃদু উপাদানযুক্ত শেভিং ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি ও শুষ্কতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা বেশি হয়। ত্বকের ছিদ্রে অতিরিক্ত তেল, ময়লা ও মৃত কোষ জমে এসব সমস্যা তৈরি হয়, যা ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে। অনেকেই এ কারণে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন বা সামাজিক পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করেন। তাই নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিনের যত্নে যা করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বক ভালো রাখতে জটিল রুটিনের প্রয়োজন নেই। কয়েকটি নিয়মিত অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিতে পারে।
- দিনে দুইবার নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
- মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যাতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
- ঘর থেকে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রোদ না থাকলেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
- সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা এক্সফোলিয়েশন করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক সতেজ থাকে।
- দাড়ি রাখলে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং শেভের পর আফটারশেভ বাম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও জরুরি।
- সুন্দর ত্বকের জন্য শুধু প্রসাধনী নয়, সুষম খাদ্যও সমান জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও পানি খেতে হবে। বাদামও খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো, কারণ এটি ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পাশাপাশি নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করলে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো থাকে।
ত্বকের যত্ন কোনো বিলাসিতা নয়; এটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যারই একটি অংশ। ৩০ বছর পার হওয়ার পর নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করলে দীর্ঘদিন ত্বক সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব। তাই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের চাহিদাও বদলায়-সে অনুযায়ী যত্নের অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



