Wednesday, July 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিমানে উইন্ডো সিটে বসেন? অজান্তেই ত্বকের যে ক্ষতি করছেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের ক্ষতিসহ ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

মেঘের ওপর ভাসতে ভাসতে জানালার বাইরে মেঘের ভেলা কিংবা সূর্যাস্ত দেখার আনন্দ অনন্য। এ কারণেই বিমানে ভ্রমণের সময় বেশির ভাগ যাত্রীরই প্রথম পছন্দ থাকে ‘উইন্ডো সিট’। বিশেষত দীর্ঘ বিমানযাত্রার একঘেয়েমি কাটাতে কিছুটা সময় অন্তত সেখান দিয়ে বাইরে চোখ রাখা যায়।

তবে মনের মতো এই সিটে বসলেও অজান্তে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে জানেন কি? বিপদ বাড়তে পারে দীর্ঘ সময়ের দিনের বেলার উড়ানে। জানলার ধারে বসে নরম রোদ উপভোগ করতে ভালবাসেন অনেকেই। বিপদ লুকিয়ে সেখানেই। 

কেন বাড়ে এই ঝুঁকি

সাধারণত উচ্চতা যত বাড়ে, বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব তত কমতে থাকে। ফলে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি প্রতিরোধে বায়ুমণ্ডলের যে স্বাভাবিক সুরক্ষাবলয় থাকে, উচ্চতার কারণে তা অনেকখানি দুর্বল হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, বিমান যখন ৩০,০০০-৪০,০০০ ফুট উঁচু দিয়ে যায়, তখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণের মাত্রাও বাড়ে। কারণ, যত বেশি উচ্চতায় ওঠা যায়, বায়ুস্তরও ততই হালকা হতে থাকে। ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের মাত্রাও বেড়ে যায়। জানলার ধারে আরাম করে বসলে, অজান্তেই ত্বকের ক্ষতি করতে পারে সেই রশ্মি।

প্রতি ৩,০০০ ফুট উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা প্রায় ১০ থেকে ১২% পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়া মেঘের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় মেঘ কিংবা তুষারাবৃত ভূমি আয়নার মতো কাজ করে। এতে প্রায় ৮৫% পর্যন্ত ইউভি রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিমানের জানালার ভেতর দিয়ে সোজাসুজি যাত্রীদের শরীরে এসে পড়ে।   

কাচ কি সুরক্ষা দেয় না? 

বিমানের জানালা তৈরিতে যে ধরনের প্লাস্টিক বা গ্লাস ব্যবহার করা হয়, তা মূলত ইউভিএম রশ্মি ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম। ইউভিবি রশ্মি মূলত ত্বকে রোদে পোড়া ভাব (Sunburn) তৈরি করে। তবে আসল বিপদ লুকিয়ে রয়েছে ইউভিএ রশ্মিতে। বিমানের সাধারণ জানালা এই লম্বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ইউভিএ রশ্মি পুরোপুরি আটকাতে পারে না।

ত্বকের গভীরে প্রবেশ: ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীর স্তরে গিয়ে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু ভেঙে ফেলে। 

অকাল বার্ধক্য: এর ফলে ত্বকে বলিরেখা, পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ দ্রুত ফুটে ওঠে। 

ক্যান্সারের ঝুঁকি: দীর্ঘমেয়াদে এই রশ্মির প্রভাবে মেলানোমা বা ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়। 

JAMA Dermatology-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০,০০০ ফুট উঁচুতে বিমান ককপিটে মাত্র ১ ঘণ্টা অবস্থান করলে ত্বকে যে পরিমাণ ইউভিএ রশ্মি প্রবেশ করে, তা ২০ মিনিট ট্যানিং বেডে থাকার সমান। ট্যানিং বেড হলো এমন একটি বিশেষ যন্ত্র, যেখানে কৃত্রিম অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে ত্বকে ট্যান বা গাঢ় রঙ সৃষ্টি করা হয়। অনেক দেশে সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে রোদে না গিয়েও ট্যানড লুক পেতে।

ভ্রমণের সময় ত্বক সতেজ রাখার ৫ কার্যকর উপায় 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শুধু ভ্রমণের দিন নয়, কয়েক দিন আগে থেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করাই বেশি উপকারী।

ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড, গ্লিসারিন বা স্কোয়ালেনসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না: অনেকেই মনে করেন বিমানে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু দিনের বেলায় ভ্রমণ করলে ব্রড-স্পেকট্রাম এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ত্বককে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।

স্কিনকেয়ার রুটিন সহজ রাখুন: ভ্রমণের আগে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বা শক্তিশালী অ্যাকটিভ উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো। একটি মৃদু ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন - এই তিন ধাপের রুটিনই যথেষ্ট।

সঙ্গে রাখুন লিপ বাম ও ফেস মিস্ট: ভ্রমণের সময় ঠোঁট ও চোখের নিচের ত্বক সবচেয়ে দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই একটি হাইড্রেটিং লিপ বাম এবং সুগন্ধিবিহীন ফেস মিস্ট সঙ্গে রাখলে সহজেই সতেজ অনুভব করবেন।

   

About

Popular Links

x