Sunday, August 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রান্নাঘরের এই ৩ জিনিস বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললেই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিরাপদ উপকরণ ব্যবহার করা সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত। কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহার করা কিছু জিনিসই অজান্তে শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু ও রাসায়নিকের প্রবেশের পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো কিচেন স্পঞ্জ, অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত ডিশওয়াশ জেল এবং আঁচড় ধরা বা খসে যাওয়া নন-স্টিক প্যান দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পুরোনো কিচেন স্পঞ্জ 

বাসন ধোয়ার স্পঞ্জ সবসময় ভেজা থাকে, ফলে এটি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বৃদ্ধির আদর্শ জায়গায় পরিণত হয়। সময়ের সঙ্গে স্পঞ্জে সালমোনেলা, ই. কোলাইসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু জমতে পারে। এসব জীবাণু বাসন ও খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, বমি, পেটের সংক্রমণ এবং জ্বরের কারণ হতে পারে।

করণীয়

* সপ্তাহে অন্তত একবার স্পঞ্জ পরিবর্তন করুন।

* প্রতিদিন ব্যবহারের পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন।

* দুর্গন্ধ বা ছিঁড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নতুন স্পঞ্জ ব্যবহার করুন।

বেশি রাসায়নিকযুক্ত ডিশওয়াশ জেল

কিছু ডিশওয়াশ জেলে অতিরিক্ত সুগন্ধি, রং বা শক্তিশালী রাসায়নিক উপাদান থাকে। বাসন ভালোভাবে না ধুলে এসব রাসায়নিকের অল্প অংশ বাসনে থেকে যেতে পারে। এতে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ত্বকে অ্যালার্জি, ডার্মাটাইটিস, চোখে জ্বালাপোড়া এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তির ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

করণীয়

* কম রাসায়নিক ও পরিবেশবান্ধব ডিশওয়াশ জেল বেছে নিন।

* বাসন ধোয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

* ডিশওয়াশ ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন।

পুরোনো নন-স্টিক প্যান

নন-স্টিক প্যানের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। গভীর আঁচড় বা খসে যাওয়া অংশ থেকে আবরণের ক্ষুদ্র কণা খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। গভীর আঁচড় ধরা বা খসে যাওয়া নন-স্টিক প্যান উচ্চ তাপে ব্যবহার করলে ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হতে পারে। এর ফলে চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্ট এবং সাময়িক ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ (পলিমার ফিউম ফিভার) দেখা দিতে পারে। তাই এমন প্যান দ্রুত পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত উচ্চ তাপে ক্ষতিগ্রস্ত নন-স্টিক আবরণ আরও দ্রুত নষ্ট হয়। তাই চাইলে স্টিল, কাস্ট আয়রন বা ট্রাই-প্লাই বাসনও ব্যবহার করতে পারেন।

করণীয়

* প্যানে গভীর আঁচড় বা আবরণ উঠে গেলে নতুন প্যান ব্যবহার করুন।

* ধাতব খুন্তির বদলে কাঠ বা সিলিকনের খুন্তি ব্যবহার করুন।

* খালি প্যান দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে গরম করবেন না।

সুস্থ থাকতে ছোট কিছু অভ্যাসই যথেষ্ট

রান্নাঘরের এসব জিনিস সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে বা দীর্ঘদিন পরিবর্তন না করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত স্পঞ্জ বদলানো, নিরাপদ ডিশওয়াশ ব্যবহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নন-স্টিক প্যান পরিত্যাগের মতো ছোট ছোট অভ্যাসই পরিবারকে নানা ধরনের সংক্রমণ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

   

About

Popular Links

x