লঘুচাপ দুর্বল হলেও বড় শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

ভারতের ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে সাধারণ লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় এখনো বায়ুচাপের তারতম্য বিদ্যমান, যার প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগষ্ট) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়, লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৪৮-৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাবে কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটিতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানি ৯ সেন্টিমিটার কমেছে।

গত এক দিনে দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে (৪৬ মিলিমিটার) ও লাটুতে (৩৬ মিলিমিটার)। উজানে ভারতের মিজোরামের আইজলে ৭০ মিলিমিটার এবং মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, আগামী তিন দিনে তিস্তা, গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী ও সাঙ্গুসহ কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে। এর মধ্যে তিস্তা নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে ইতিমধ্যে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে, এবং আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের কিছু অংশে তা অব্যাহত থাকতে পারে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি কমার প্রবণতা থাকলেও কুশিয়ারা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে এখনো সতর্কসীমায় রয়েছে। ময়মনসিংহের সোমেশ্বরী নদীও নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি কমছে, আর গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে সামান্য বাড়তে পারে—তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও টঙ্গী খালের পানি এখন স্থিতিশীল ও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং আগামী তিন দিনও তা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর, রূপসা-ইছামতী, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ার অব্যাহত রয়েছে, যা আরও একদিন থাকতে পারে।

সবমিলিয়ে দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬টিতে পানি বেড়েছে, কমেছে ১০১টিতে, আর বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে একটি মাত্র স্টেশন।