চাকরি-বেতন সবই দিতেন ভুয়া নিয়োগপত্রে, হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা 

সরকারি অফিসের উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বাবলু কাজী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের দিতেন।

গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার মো. সবুজ সরকার নামে এক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশননার  মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা মহানগরের পল্লবী থানার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে ডিবির ওয়ারী বিভাগ। এ সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, “প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত চতুর ও সংঘবদ্ধ। তারা সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি - এমন সরকারি অফিসগুলোকে লক্ষ্য করতো। চক্রের একজন নিজেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং অন্যরা চালক বা অফিস সহকারী পরিচয় দিয়ে সরকারি অফিসে অবাধে চলাফেরা করত। ফলে চাকরিপ্রার্থীরা সহজেই তাদের বিশ্বাস করতেন।” 

বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করে বলতো, “চাকরিতে যোগদানের পর টাকা দিলেই হবে।”

ভুক্তভোগী সবুজ সরকারকে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পর ভূমি অফিসে বসার ব্যবস্থাও করে প্রতারক চক্রটি। এমনকি ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করিয়ে প্রথম তিন মাস নিজেদের পকেট থেকে বেতন হিসেবে কিছু টাকা দেওয়া হয়। পরে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়। 

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বাবলু কাজীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।