মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চা উৎপাদনে সংকট

মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে তীব্র গরম আর অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চায়ের ভরা মৌসুমে এই বিদ্যুৎ সংকটের ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার ৯৩টি চা বাগানগুলোতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না, যা উৎপাদন কার্যক্রমকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করে কারখানা সচল রাখতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা বহন করা বাগান কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। 

এদিকে দিন ও রাতের নিরবচ্ছিন্ন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর রোদ ও তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা।

বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না এবং অনেক পরিবারকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জিএম শিবলী গুণগত মান ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করে জানান,  ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে কারখানার দামি যন্ত্রপাতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও বিকল হচ্ছে।  চা-পাতা তোলার পর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় শুকানো, রোলিং মেশিনে গুঁড়ো করা এবং জারণ প্রক্রিয়া—প্রতিটি ধাপেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সঠিক সময়ে পাতা প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় চায়ের মান কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমদ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চা উৎপাদনে ক্ষতির কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।

মৌলভীবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইন্দ্রোজিৎ দেবনাথ বলেন,  “খুব শীঘ্রই এই বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাবে এবং এই সমস্যা বেশি দিন থাকবে না।”

তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তবে খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে দেশে মোট ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।