ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু: এখনো নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৫ তরুণ

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে একটি নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নিহত নয়জনই বাংলাদেশি। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যুর সংবাদ দেন মিশরের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন। 

দেশটির মারসা মাতরুহ হাসপাতালে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি আবদুল করিমের বরাতে তিনি জানান, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা ৪২ জন যাত্রীর ভেতরে ২৯ জন প্রায় ১১ দিন ভেসে থেকে মিশরের মাতরুহ উপকূলে পৌঁছান।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। পরে তাদের বহনকারী নৌকাটির ইঞ্জিন জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। 

তবে নিহতদের বিষয়ে কোনো তথ্য বা তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি মিশর পুলিশ বলেও দূতাবাসের পক্ষ জানানো হয়েছে। ফলে সুনামগঞ্জের নিখোঁজ ৫ তরুণের বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের অভিযোগ

গত ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন রিপন মিয়া। তার বাবা রাজ মিয়ার অভিযোগ, লিবিয়া প্রবাসী দালাল আল আমিনের সঙ্গে গ্রিসের যাওয়ার বিষয়ে মৌখিক ১২ লাখ টাকা চুক্তি হয় তার ছেলের। যাত্রার শুরুতে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দেয় দালাল আল আমিনকে। এ বছরের জুন মাসের মধ্যভাগে তার ছেলেসহ চিকারকান্দি ও রনসী গ্রামের মোট ৪ জন নিজ বাড়ি থেকে রওনা দেয়। শুরুতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে দুবাই ও সৌদিআরব হয়ে লিবিয়া যায়। ৩ আগস্ট সবশেষ রিপন ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানায়, তাদেরকে নিয়ে সেদিনই লিবিয়ায় উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে নৌকা যাত্রা করবে। এজন্য তারা পরিবারের সঙ্গে কথা শেষ করে দোয়া প্রার্থনা করেন। রাজ মিয়ার ভাষ্য, এরপরই থেকে তার ছেলের মতো বাকি  চার যুবকের সঙ্গেও তাদের পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। 

নিখোঁজ তরুণরা হলেন, হযরত খানের পুত্র মামুন খান (২১), ইকরাম উদ্দিনের পুত্র এনামুল হক খান (১৮) ও রনসী গ্রামের একলাছ উদ্দিনের পুত্র তালহা আহমদ (২৪) রয়েছেন। 

এছাড়াও, পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পালও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনে বলে জানা গেছে।

হৃদয়ের চাচা কানন পাল বলেন, “গত ৩১ জুলাই সর্বশেষ হৃদয়ের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন হৃদয় জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার কোনো সন্ধান পাননি।”

বেঁচে যাওয়া আব্দুল করিমের বরাতে যা জানা গেলো
 
প্রায় ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ১৩ আগস্ট তারা মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছান আব্দুল করিমসহ ২৯ বাংলাদেশি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাদ্য ও পানির অভাবে নিহত ৯ জন বাংলাদেশি মৃতদেহগুলোতে পচন ধরায় একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন। 

দূতাবাস বলছে, ঘটনাটি জানার পর থেকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে মিশরের স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দূতাবাস সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।