কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দা রয়েছেন। তারা হলেন সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার মো. আলমুজ্জামান সাজু এবং কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহত আলমুজ্জামান সাজু কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীর খালাতো ভাই।
অন্যদিকে রেবতী সরকার তেঁতুলিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ভবেশ সরকারের স্ত্রী। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী ছিলেন তিনি।
সাজুর খালাতো ভাই তাহমিদ শাহেদ চয়ন জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন সাজু। চিকিৎসা শেষে কলকাতার ওই হোটেলে ওঠেন তিনি। বুধবার ভোরে হোটেলের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত হোটেল শিখা ইনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। কক্ষগুলো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলটির কাছেই কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর হওয়ায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত চারটি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিউ মার্কেট থানা পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন।
স্থানীয়দের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা যাচ্ছিল না। ভবন থেকে শুধু ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। সরু গলির কারণে ভবন থেকে বের হওয়ার পথও ছিল বেশ সংকীর্ণ। এতে অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের অনেকেই ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীও নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় ফিরে রাতে তারা হোটেল শিখ ইনে ওঠেন।
নিহতদের মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের আহম্মেদ বাবুও রয়েছেন। ৩৭ বছর বয়সী বাবু ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে। তিনি আমিনবাজারে একটি প্রসাধনীর দোকান পরিচালনা করতেন।
সাতক্ষীরায় সাজু ও রেবতী সরকারের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রেবতীর প্রতিবেশী বিক্রমজিৎ সরকার জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন রেবতী। তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে বাড়িতে নেই। ফলে তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নিহত দুই সাতক্ষীরাবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।