Thursday, August 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৪ জনের মরদেহের অপেক্ষা

আট বছর বয়সী মহিমা দত্ত এখনো বুঝতে পারছে না তার বাবা, মা ও ছোট ভাই আর নেই

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের চারজনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও সহকর্মীরা। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান দেবাশীষের বাবা-মা। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের ভিড়। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীরা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও মা স্বপ্না দত্ত।

বাড়ির দ্বিতীয় তলার বারান্দায় খেলছিল দেবাশীষের আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এখনো সে বুঝতে পারছে না তার বাবা, মা ও ছোট ভাই আর নেই।

দেবাশীষের সহকর্মী ও স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, ভারতে অবস্থানরত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দীর মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কলকাতার নিউ মার্কেট থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়ার পর ময়নাতদন্ত শুরু হবে।

ময়নাতদন্ত ও ভারতের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দেবাশীষসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

স্বজনরা জানান, দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পরিবারের কাছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চান তারা।

নিহত চারজন হলেন, কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন তারা। সেদিন আত্মীয়-স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে পরদিন বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল পরিবারের।

কিন্তু এর আগেই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন ও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে দেবাশীষসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।

   

About

Popular Links

x