পৃথিবীতে বহু পেশা-কর্ম রয়েছে। তার মধ্যে সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল পেশাগুলোর অন্যতম সাংবাদিকতা।
একজন সাংবাদিকদেরকে সবসময় নানান চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেছনে ফেলে একজন সাংবাদিক সত্যকে উদঘাটন করেন। নানান ঘাত-প্রতিঘাত কিংবা চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করার জন্য প্রত্যেক সাংবাদিকের কিছু প্রাথমিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জিং জীবন সম্পর্কে জানতে দেখতে পারেন ১১টি সিনেমা। এ সিনেমাগুলো প্রত্যেক সাংবাদিকের দেখা আবশ্যক।
১। সালভাডর
‘সালভাডর’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ১৯৮৬ সালে। ‘অলিভার স্টোন’ এ সিনেমাটি তৈরি করেছেন। এ সিনেমাটি দুইটি ক্ষেত্রে অস্কার পুরষ্কারের জন্য নমিনেশন পেয়েছিল। এ সিনেমাটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘জ্যামস উড’। মধ্য আমেরিকার ক্ষুদ্র দেশ ‘এল সালভাডর’ ছিল সামরিক স্বৈরশাসনের অধীন। ১৯৮০ সালে এ দেশটিতে গৃহযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ গৃহযুদ্ধের সময় সাংবাদিকদের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে এই সিনেমাটি তৈরি হয়েছে।
২। ব্লাড ডায়মন্ড
সিয়েরালিওনে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। এ যুদ্ধের সময় অবৈধ ডায়মন্ড ব্যবসা নিয়ে ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটেছিল সিয়েরালিওনে। সিনেমাটিতে অবৈধ ডায়মন্ড ব্যবসার ভয়ংকর কাহিনীগুলো পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসেন এক নারী সাংবাদিক।
৩। স্টেট অফ প্লে
‘স্টেট অফ প্লে’ মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। এ সিনেমাতে রাসেল ক্রো একজন একরোখা সাংবাদিক হিসেবে অভিনয় করেন। তিনি সংবাদপত্রের ক্রমাগত পরিবর্তনকে ঘৃণা করতেন। সিনেমায় তিনি একটা সেকেলে কম্পিউটার ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে তার সাথে পরিচয় পরিচয় ঘটে এক নারী সাংবাদিকের যে কিনা রাসেল ক্রো’র মত একজন সাংবাদিক হতে চান। সিনেমাটিতে এক ফন্দিবাজ রাজনীতিবিদের সব অপরাধ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়।
৪। সিটি অফ গড
‘সিটি অফ গড’ একটি ভয়াবহ সিনেমা। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ এই সময়ে ব্রাজিলের শিশু-কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধযজ্ঞকে নিয়ে এ সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছে। একজন ফটো-সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব শিশু-কিশোরের জীবনের সব ভয়াবহ কর্মকান্ড ক্যামেরাবন্দী করেন। এ সিনেমাটি আইএমডিবি র্যা ঙ্কিং এ ২১ তম অবস্থানে রয়েছে।
৫। নেটওয়ার্ক
‘নেটওয়ার্ক’ সিনেমাটি সৃষ্টিকর্তা থেকে প্রদত্ত বলে ধারণা চলচ্চিত্র সমালোচকদের। এ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৬ সালে। সিনেমাটি চারটি ক্ষেত্রে অস্কার পুরষ্কার পেয়েছে। প্রত্যেক সাংবাদিকের এ সিনেমাটি দেখা অত্যাবশ্যক।
৬। শাটার্ড গ্লাস
‘স্টিফেন গ্লাস’ নামের এক প্রতারক সাংবাদিককে নিয়ে এ সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ‘দ্য নিউ রিপাবলিক’ পত্রিকায় স্টাফ রাইটার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ভুয়া সংবাদ তৈরি করে লোকজনের মনে সাড়া জাগাতে চেয়েছিলেন। ২০০৩ সালে এ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।
৭। কন্ট্রোল রুম
‘কন্ট্রোল রুম’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ২০০৪ সালে। এটি মূলত একটি ডকুমেন্টরি। আমেরিকা ও ইরাকের যুদ্ধকে নিয়ে ‘আল জাজিরা’ পত্রিকার কাভারেজকে নিয়ে এ ডকুমেন্টরি তৈরি করা হয়েছে।
৮। জোডিয়াক
‘জোডিয়াক’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ২০০৭ সালে। যদিও এ সিনেমাটিকে অনেকে সাংবাদিকদের জন্য উপযোগী সিনেমা হিসেবে ধরে না, তবুও এ সিনেমাটি একটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা। এ সিনেমাটি একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে, যার সমাধান এখনো হয়নি। সিনেমাটিতে একজন পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট ও একজন ক্রাইম রিপোর্টার এ সমস্যাকে সমাধানের চেষ্টা চালায়।
৯। গুড নাইট এন্ড গুড লাক
‘গুড নাইট এন্ড গুড লাক’ সিনেমাটি ২০০৫ সালে মুক্তি পেয়েছে। এ সিনেমাটি ৬ টি ক্ষেত্রে অস্কারের জন্য নমিনেশন পেয়েছিল। বিখ্যাত এক সাংবাদিকের জীবন নিয়ে এ সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছে।
১০। দ্য ইনসাইডার
মাত্র ৬০ মিনিটের ‘দ্য ইনসাইডার’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ১৯৯৯ সালে। এ সিনেমাটি একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রির বিরাট অবস্থান ছেড়ে দিয়ে ১৯৯৫ সালে এক লোক ক্যামেরা হাতে নেমে পড়েন একজন ফটো-সাংবাদিক হিসেবে। ফটো-সাংবাদিকের কাহিনী নিয়েই এ সিনেমাটি তৈরি করা হয়।



