জামালপুরে ভাড়াবাসা থেকে ইসরাত জাহান (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচতলার এক ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশু সন্তানের চিৎকার শুনেন স্থানীয়রা। বাসার মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানানো হয়।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে জামালপুর পৌর শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকার একটি ভবনের পাঁচতলার এক ফ্ল্যাট থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা চিৎকার শুনে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানালে তারা গিয়ে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার-৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার তালা ভেঙে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় পাশের কক্ষ থেকে তাদের মা ইসরাত জাহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাওসার আহমেদ শাওন পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কাওসার আহমেদ শাওন বাসায় আসার পর ইসরাত জাহানের সঙ্গে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে কাওসার তার দুই সন্তানকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে ইসরাতকে মারধর করে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কাওসার তার দুই সন্তানকে আটকে রাখা কক্ষের দরজা খুলে দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বের হওয়ায় সময় ফ্ল্যাটের সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে কাওসার আহমেদ শাওন। পরে ওই দুই শিশু সন্তান তার মাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ফ্ল্যাটের পাঁচতলার জানালা দিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে।
বাসায় মালিক বাবুল মিয়ার ছোট ভাই ইব্রাহিম হোসেন জানান, তারা এক মাস হলো বাসা ভাড়া নিয়েছে। তাদের মধ্যে কলহ থাকতে পারে। কিছুদিন আগেও ইসরাত জাহান তার দুই সন্তানকে ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে সারাদিন বাইরে ছিলেন।
নিহত ইসরাত জাহান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গাড়িয়াডাঙ্গা এলাকার কাওসার আহমেদ শাওনের স্ত্রী। তাদের ৬ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১০ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। নিহত ইসরাত জাহানের বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পত্তি প্রায় এক মাস ধরে পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকায় ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। কাওসার আহমেদ শাওন শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় মুদি দোকান করেন। ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পত্তির মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহ ছিল।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটি একটি হত্যাকাণ্ড। শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”