ভারতে জাহাজডুবি, এখনো নিখোঁজ বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন

ভারতের ওডিশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজএমভি ওশান উইনারডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করা জাহাজটি শনিবার বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রুর মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের একজন বাংলাদেশের নাগরিক।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজডুবির পর পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকিদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্টগার্ড নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল্লাহ আল মামুনের অবস্থান সম্পর্কে এখনো তার পরিবারকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দা মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি রোববার রাতে জানান, ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে কোনো ব্রিফিং বা আপডেটের অপেক্ষায় আছেন তারা। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে পরিচিতদের মাধ্যমে প্রথম জাহাজডুবির খবর পান তারা, এরপর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

জাহাজডুবির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ভারতের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়। এরপর কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজএমটি আইসোপোসরাত আটটার দিকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে কোস্টগার্ডেরবরদ”, “আনমোলবিজিতনামের তিনটি টহল জাহাজ উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়।

পরিবারের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে মামুনের বড় ভাই বলেন, “মা আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত এবং বাবারও বয়স হয়েছে বিধায় এই ঘটনার পর পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।“

মামুনের বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি জানান, গত এপ্রিলের শেষ দিকে জাহাজে যোগ দেন মামুন এবং জাহাজ ছাড়ার রাতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেও নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানান তিনি।