কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ৬ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ বেনাপোল হয়ে ও একজনের মরদেহ ভোমরা হয়ে দেশে এসেছে। নিহত সপ্তম ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী কলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৫টি মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
নিহতদের মধ্যে দেশে আসা ৬ মরদেহ হলো- সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত (৩), শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০), ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু (৩৭) ও সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের আলিমুজ্জামান।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তারাসহ নিহতের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
দেবাশীষ দত্তের মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই সনি এবং স্বজনেরা। দেবাশীষের বাবা দীলিপ দত্ত বেনাপোল আসেননি। তিনি বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন।
অপরদিকে ঢাকা সাভারের বাবু আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত দুইটার সময় কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের ৪ জন এবং ঢাকা সাভারের একজন ছিলেন। ওই ৫ জনের মরদেহ দেশে ফিরেছে এবং মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি গাজী মাহবুব রহমান জানান, শনিবার বিকাল ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যসহ ৪টি মরদেহ নিয়ে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতে কুষ্টিয়া পৌঁছানোর পরই দেবাশীষ ও তার শিশু পুত্রর মরদেহ নেওয়া হবে শ্মশানে। এবং আকরাম হোসেন ও তার মেয়ে (দেবাশীষের স্ত্রী) আফসানা শারমিনের মরদেহ নেয়া হবে কবরস্থানে।
এর আগে, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের ভোমরা বন্দর দিয়ে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের আলিমুজ্জামানের মরদেহ দেশে আনা হয়। তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) দিনগত রাত দুইটার দিকে কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন, সাতক্ষীরার দুইজন এবং ঢাকা সাভারের একজন রয়েছে।
নিহত ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ শনিবার সকালে ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। পরে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহন এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।
সপ্তম ব্যক্তি সাতক্ষীরার নিহত রেপতি সরকারের মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী শুক্রবার রাতে কলকাতায় সৎকার করা হয়। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন আর্থিক ও সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে।



