রাজধানীসহ দেশজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির পরও কমছে না ভ্যাপসা গরম। একদিকে বৃষ্টি তো অন্যদিকে গরম। বৃষ্টি শেষে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠছে নাগরিক জীবন।
তবে বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিলবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (২২ আগস্ট) এক বার্তায় বৃষ্টি ও গরম নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি নদীর পানিও বাড়তে পারে।
শনিবারের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে কুশিয়ারা, খোয়াই ও তিস্তার কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৫৬টির পানি বেড়েছে, ৬৭টির কমেছে এবং ৪টির পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে দেশের কোনো নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বোচ্চ ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অমরপুরে ৬৮ মিলিমিটার এবং কুমারঘাটে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং এসব অঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। নদীটি সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিন সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বাড়তে পারে। এরপর তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এদিকে মনু, খোয়াই ও ধলাই নদীর পানিও বেড়েছে। খোয়াই নদী হবিগঞ্জের বল্লা স্টেশনে সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে নদীটির পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
রংপুর বিভাগে তিস্তা ও ধরলার পানি স্থিতিশীল থাকলেও দুধকুমারের পানি কমেছে। তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া স্টেশনে সতর্কসীমায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার পানি আগামী একদিন বাড়তে পারে। পরে দুই দিন কমে চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।



