চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজারে গ্যাস সরবরাহ শুরু

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত এ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

চলতি বছরের ৩ মার্চ সর্বশেষ উৎপাদনে থাকা কারখানাটি পরদিন ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সিইউএফএলের প্রধান রসায়নবিদ ও উৎপাদন বিভাগীয় প্রধান উত্তম চৌধুরী বলেন, “সকাল ১০টা থেকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে সাড়ে ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কারখানা চালু করা হয়েছে। তবে এখনও উৎপাদন শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে কারখানায় কোনো ত্রুটি আছে যাচ্ছে কিনা তা দেখা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আশা করছি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর আমরা ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করতে পারবো।”

সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরণ মারমা বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সাড়ে চার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। উৎপাদন শুরু হলে তখন গ্যাস সরবরাহ বাড়বে।”

তিনি জানান,  পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন হয়।

সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার সময় কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা ছিল প্রায় ১,৭০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন। তবে দীর্ঘদিনের ব্যবহার ও যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১,২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে কারখানাটি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে, যা বিভিন্ন শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রসঙ্গত, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর। জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই সার কারখানা নির্মাণ করা হয়। প্রায় চার দশক ধরে দেশের কৃষি উৎপাদনে ইউরিয়া সারের সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সিইউএফএল।