নেপালের আকস্মিক বন্যায় ৯৫ জনের মৃত্যু, ভারতেও সতর্কতা জারি

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নদীগুলোর নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভারতের কয়েকটি এলাকাতেও বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।

চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি নদীর তীর ভেঙে কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত জনপদে ঢুকে পড়ে, যাতে নেপালে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গেছে। তিব্বতের কর্মকর্তারাও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে সতর্ক করেছে।

নেপালের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ২৯১ জন বিদেশিসহ মোট ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪৪ ও পুলিশের ৩০ সদস্যও নিখোঁজ। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তালিকায় একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিকও রয়েছেন, যিনি একটি স্থানীয় ট্যুর অপারেটরের ভ্রমণ দলের সদস্য ছিলেন। বোর্ডের ধারণা, নিখোঁজদের বড় অংশ ভারতীয় নাগরিক বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত তীর্থযাত্রী, যারা কৈলাস পর্বতের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ থেকে বরফ-পাথরের ধস নামার পর ভোতে কোশির একটি উপনদীতে আকস্মিক ঢল নামলে এই বন্যা সৃষ্টি হয়। নদীর উজানে পানিপ্রবাহ এখনো বাধাগ্রস্ত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে ভারতের সীমান্তবর্তী বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এখনো নিরূপণ করা যায়নি। রাসুয়া জেলার দুর্গম এলাকায় পানি না কমা পর্যন্ত হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, গাড়ি ভেসে গেছে এবং একটি ধাতব সেতু স্রোতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

রাসুয়ার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার নদীতীরের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্মী গনমাধ্যমকে জানান, তার নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।

সিনহুয়ার তথ্যমতে, বন্যার প্রভাবে তিব্বতের শিগাতসে অঞ্চলে সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানো ও ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।