সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত জনের মরদেহ এসে পৌঁছেছে নওগাঁর আত্রাইতে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আত্রাই উপজেলায় এসে পৌছায়। এর আগে, এদিন বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে মরদেহগুলো সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসে।
মরদেহগুলো আত্রাইতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছাঁয়া। মরদেহগুলোকে এক নজর দেখতে আত্রাই থানা কম্পাউন্ডে রাত থেকেই ভিড় করতে থাকেন নিহতের স্বজন এবং স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টায় জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাতজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে স্বজনদের মাঝে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ, সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মরদেহগুলো শনাক্তের তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড ১৬ জন বাংলাদেশী কর্মী মৃত্যুবরণ করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করে নয় জন মৃত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে মরদেহসমূহ বাংলাদেশ প্রেরণের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটযোগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪.০৫ ঘটিকায় মৃতদেহসমূহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন - আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “নিহতের পরিবার গুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে প্রেরণ করাও হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহ গুলো বিনা খরচে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ এসেছে।”
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালায়ের বরাত দিয়ে ইউএনও আরও বলেন, “সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডের নিহতের ঘটনায় শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি মরদেহ গুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
ইউএনও বলেন, “আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলা সদরের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতটি মরদেহের একত্রে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”