গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় মেয়ের জামাইয়ের কুড়ালের কোপে শ্বশুর মজিদ মোড়লের (৬৫) মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামালপুর কলাপট্টির নিহতের নিজ দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মজিদ মোড়ল কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। জামালপুর বাজারের কলাপট্টিতে কলার দোকান দিয়ে কলার ব্যবসা করতেন।
অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন একই উপজেলার উত্তর জামালপুর (সরকারপাড়া) গ্রামের মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে এবং নিহত মজিদ মোড়লের মেয়ের জামাই।
নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন মোড়ল বলেন, “ঘাতক মোজাম্মেল মাদক সেবী। সে তার স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করতো। এ কারণে একাধিকবার স্বামীর বাড়ি থেকে আমার বোন বাবার বাড়িতে চলে আসে। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে সে বাবার বাড়িতেই ছিলেন। মোজাম্মেল আমাদের বাড়িতে এসেও বোনকে উত্ত্যক্ত করতেন। এসব নিয়ে বাবার (মজিদ মোড়ল) সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরোধ হয়।”
নিহতের মেয়ে ও মোজাম্মেলের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, “বিকেলে আমার বাবা দোকানে ছিলেন। ওই সময় ট্রলি ব্যাগ নিয়ে দোকানে আসেন মোজাম্মেল। হঠাৎ করে ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে বাবা মাটিতে পড়ে গেলে ট্রলি ব্যাগ রেখে মোজাম্মেল পালিয়ে যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত মজিদ মোড়লকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জিয়াউর রহমান বলেন, “হাসপাতালে মজিদ মোড়লকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসে তার স্বজনেরা।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”