ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় পুনরায় গ্যাস সংযোগ ও জিয়া ফার্টিলাইজার নাম পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একাংশ অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি করছেন কারখানাটির শ্রমিকরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একাংশ অবরোধ করে রাখে তারা। এতে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীসহ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরাও অংশ নেন।
১৯৮১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এন্ড কেমিক্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে ১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে কারখানাটির উৎপাদন শুরু হয়। পরে ওই বছর আশুগঞ্জ ক্যামিকেল কোম্পানী লিমিটেড থেকে জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড নামকরণ করা হয়। পরে ২০১০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দিয়ে পুনরায় আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এন্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড নামকরণ করেন। প্রতিদিন গড়ে ১২শ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতো প্রতিষ্ঠানটি।
গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের পহেলা মার্চ থেকে কারখানাটিতে ১৮ মাস ধরে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে সারকারখানার ১২শ স্থায়ী এবং অস্থায়ী শ্রমিক মিলিয়ে অন্তত ২ হাজার শ্রমিক কর্মচারী আন্দোলন করে আসছে।
বক্তারা বলেন, “কিছুদিন আগে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রর ত্রিমুখী যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে সার এবং এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। সারের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। কারণ বাইরে থেকে সার আনতে হলে দ্বিগুণ মূল্যে আমদানি করতে হয়। যেখানে আমরা অর্ধেক মূল্যে বাংলাদেশে সার উৎপাদন করতে পারি, সেখানে কেন আমরা জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে দ্বিগুণ মূল্যে সার আমদানি করবো? ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা আমাদের কাজ হতে পারে না। আমাদের কাজ হচ্ছে জনগণের স্বার্থদেখা।”
মানববন্ধনে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এর পূর্বনাম আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার এন্ড ক্যামিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড নামকরণের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় তারা জিয়া সরকারখানা-২ নামে নতুন একটি সারকারখানা স্থাপন করারও দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে 'শিল্প বাঁচাও', 'কর্মসংস্থান বাঁচাও', 'কৃষি বাঁচাও', 'দেশ বাঁচাও' এই স্লোগান তুলে অন্যথায় রেলপথ, সড়ক পথ অবরোধকরার ঘোষনা দেন শ্রমিক কর্মচারীরা। দাবি না মানা না হলে রেলপথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ অবরোধ করার ঘোষণা দেন শ্রমিক কর্মচারীরা।