‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা’

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কোনো ধরনের নিরাপত্তা কিংবা রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়বে না এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে ঢাকার সম্পৃক্ততাও সীমিত হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ’র সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

চুক্তির গতিপ্রকৃতি নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, "এটি একটি অনন্য প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য নতুন দিগন্ত ও সুযোগ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ এই প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে। বর্তমানে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং আমাদের সব দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গে কথাবার্তা গঠনমূলক ও ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।"

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা ‘মক্কা চুক্তি’। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যৌথ অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

চুক্তিতে অংশ নিলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ কোনো ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ঢাকা অত্যন্ত সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলছে। তিনি বলেন, "বর্তমান অস্থিতিশীল ও সংকটপূর্ণ বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এটি আমাদের কূটনৈতিক পরিসরকে কখনোই সীমিত করবে না।"

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ এক অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম। সারা বিশ্বেই জাতিসংঘের অধীনে আমাদের শান্তিরক্ষীরা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাহলে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃসমাজের সুরক্ষা ও শান্তিরক্ষায় আমরা কেন অবদান রাখব না?" তা ছাড়া দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম হিসেবে সৌদি আরবের এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখাকে তিনি যুক্তিযুক্ত বলে মত দেন।

জেদ্দায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওআইসির ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ (সিএফএম) বৈঠকের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে তাঁর সফল বৈঠকের কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, চুক্তিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান ইতিবাচক হলেও এখন পর্যন্ত সৌদি আরব বা সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ মেলেনি। তবে আমন্ত্রণ পেলেই পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।