জমি কেনা কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করার পর মালিকানা আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে ‘নামজারি’ বা ‘মিউটেশন’ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী নামজারি প্রক্রিয়ায় এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ানে আগের মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করাকেই নামজারি বা মিউটেশন বলা হয়। বর্তমান ডিজিটাল সিস্টেম অনুযায়ী অনলাইনে নির্ধারিত ফি দিয়ে নামজারির আবেদন করা যায়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নামজারির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে ওয়ারিশসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে আবেদন করতে হবে। ওয়ারিশদের মধ্যে যদি কোনো ভাগ-বাটোয়ারা না থাকে, তবে একই খতিয়ানে যৌথভাবে (কো-শেয়ারার হিসেবে) নামজারি হবে; আলাদা আলাদা খতিয়ান করা হবে না।
তবে ওয়ারিশরা যদি নিজেদের মধ্যে জমি বণ্টন করে নেন, তাহলে নিবন্ধিত বণ্টননামা বা সমঝোতা দলিল অনুযায়ী পৃথক খতিয়ানে নামজারি করা যাবে। আবেদন করার সময় সব ওয়ারিশের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একসঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক; অন্যথায় আবেদন গৃহীত নাও হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, নামজারি বা হালনাগাদ খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনাবেচা, দান বা হেবা করা সম্ভব নয়। এমনকি প্রকৃত মালিকানা থাকা সত্ত্বেও রেকর্ড নিজের নামে না থাকলে জমিটি অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করা যায় না।
যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান সঠিক আছে, তাদের নতুন করে নামজারি করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে পুরোনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাল সিস্টেমে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ইতিবাচক।
অনলাইনে নামজারির আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রগুলো হলো: ক্রয়সূত্রে হলে রেজিস্ট্রি বা বায়া দলিলের কপি, সর্বশেষ খতিয়ানের কপি ও দাগ নম্বরসহ জমির বিবরণ, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), উত্তরাধিকারসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), অনলাইন আবেদন ফরম ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের রসিদ
বর্তমান ডিজিটাল মিউটেশন ব্যবস্থায় সাধারণত নির্ধারিত ২৮ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে দাখিল করা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা জমি সংক্রান্ত কোনো আপত্তি বা আইনি বিরোধ দেখা দিলে এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।