চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় একটি সিএনজি অটোরিকশা মেরামতের ওয়ার্কশপ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা। দুই ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর পুলিশ এ তথ্য পায়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
হাটহাজারীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অস্ত্র তৈরি, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) ও মো. কবির (৪৭)।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেন, “হাটহাজারী উপজেলার সরকারহাট বাজারে একটি সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ার্কশপটিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত জব্দ করা হয়।”
অভিযানে জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি এবং মো. কবিরকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, পেনগানের ১৮টি গুলি এবং পিস্তলের দুটি বুলেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন অস্ত্র তৈরির একটি আস্তানার বিষয়ে তথ্য দেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে ওসমানের সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ সিএনজি ওয়ার্কশপ হিসেবে পরিচালিত হলেও এর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরে তৈরি করা অস্ত্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও চক্রের কাছে সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. তারেক আজিজ জানিয়েছেন, এসব সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই স্থানে কী ধরনের অস্ত্র তৈরি করা হতো এবং চক্রটির কার্যক্রম কতদিন ধরে চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।