ম্যাজিস্ট্রেটের সই-সিল জালিয়াতি: এফিডেভিট কাণ্ডে বাবা-ছেলের নামে মামলা

গাইবান্ধায় একটি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন সংক্রান্ত এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সই ও সিল জাল করার অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। জাল নথিটি আদালতে আসল হিসেবে জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ আগস্ট। পলাশবাড়ী উপজেলার মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য নতুন একটি এফিডেভিট করাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে যান। কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদার নজরে আসে, একই ব্যক্তির নামে একই ম্যাজিস্ট্রেটের সইয়ে আগেই আরেকটি এফিডেভিট রয়েছে।

সন্দেহ হওয়ায় সেই আগের এফিডেভিটের মূল কপি যাচাই করে দেখা যায় তাতে ব্যবহৃত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের সই ও সিল আসলে তার নয়। এমনকি নথিতে যে আদালতের সিল ব্যবহার হয়েছে, ওই ম্যাজিস্ট্রেট তখন সেই আদালতের এখতিয়ারেই ছিলেন না গত ১৫ জুলাইয়ের আগে তিনি পলাশবাড়ীর এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না।

আরও গরমিল ধরা পড়ে স্মারক নম্বরে। জাল এফিডেভিটে ব্যবহৃত ৬২৩/২৬ নম্বর স্মারকের কোনো অস্তিত্বই আদালতের প্রকৃত রেজিস্টারে নেই। রেজিস্টার অনুযায়ী সর্বশেষ এন্ট্রি ছিল ৫ মে তারিখে, ৪৫০/২৬ নম্বরে। এছাড়া জাল এফিডেভিটে ইংরেজিতে যে সিল বসানো হয়েছে, তাও ধরিয়ে দেয় জালিয়াতি কারণ সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রকৃত সিল বাংলায় লেখা।

সব প্রমাণ মিলিয়ে দেখার পর মঙ্গলবার গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নম্বর সিআর-১৩৫/২৬)। দণ্ডবিধির প্রতারণা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় সাকোয়াত হোসেন, আসাদুজ্জামান এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা জানান, পুলিশি তদন্তে প্রকৃত জড়িতরা শনাক্ত হবে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদী।