Tuesday, September 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অনাস্থা, ‘বিয়ে হলো না, তালাক হলো কীভাবে?’

হাইকোর্ট অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর চার মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ পিএম

রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব জটিলতা। চেয়ারম্যান পদ শূন্য, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মারা গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পাওয়ার কথা প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এর, কিন্তু তিনি দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অনাস্থা প্রস্তাব। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে বাদ দিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ কে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি গড়ায় আদালতে, যেখানে হাইকোর্ট অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর চার মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন।

প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জয়নাল আবেদীন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং পেশায় আইনজীবী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বিষয়টি তুলে ধরতে তিনি বলেন, “বিয়ের আগে তালাক! বিয়ে হলো না, আর তালাক হয়ে গেল কীভাবে?” তার ভাষ্যমতে, ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের প্রথম সভাতেই প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করে রাখতে হয়, এবং চেয়ারম্যান অনুপস্থিত বা মৃত হলে আলাদা আদেশ ছাড়াই প্যানেল চেয়ারম্যানদের মধ্য থেকে একজন দায়িত্ব পালন করেন।

হড়গ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের নেতা আবুল কালাম আজাদ, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পদত্যাগ করেন এবং বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের কাছে পরাজিত হন। এরপর প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুনজুর রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন, তবে অসুস্থতার কারণে গত ১৭ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।

তবে নথি অনুযায়ী, মুনজুর রহমান জীবিত থাকতেই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গত ২৩ জুলাই ছয়জন সাধারণ সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এই প্রস্তাব দেন। আবেদনে বলা হয়, মুনজুর রহমান চিকিৎসার জন্য ভারতে ছুটিতে থাকাকালীন প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ রুপালী পারভীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একই আবেদনে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এর অনুপস্থিতিতে জয়নাল আবেদীনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও অনাস্থা জানানো হয় যদিও তখনো তিনি দায়িত্বই গ্রহণ করেননি এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উল্লেখ ছিল না।

এরপর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়, যিনি গত ২৮ জুলাই জয়নাল আবেদীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

জয়নাল আবেদীনের প্রশ্ন, অনিয়ম-দুর্নীতি বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ছাড়া অনাস্থা আসে কীভাবে, অথচ তিনি দায়িত্বই গ্রহণ করেননি। তার অভিযোগ, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির হওয়ায় তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে, এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ রুপালী পারভীনকে দায়িত্ব দেওয়ার পথ তৈরি করতেই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে।

রুপালী পারভীন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক থাকলেও বর্তমানে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত জানিয়ে অনাস্থা প্রসঙ্গে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

অনাস্থা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন জয়নাল আবেদীন, এবং আদালত এই প্রস্তাবের ওপর চার মাসের স্থিতাবস্থা দেন। ফলে মঙ্গলবার ইউপি কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্ধারণের নির্ধারিত সভাটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান জানান, সোমবার হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার বিষয়টি জানার পর ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে সভাটি বাতিল করা হয়েছে।

হড়গ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদও মনে করেন, নিয়ম অনুযায়ী জয়নাল আবেদীনেরই দায়িত্ব পাওয়ার কথা এবং তাকে দূরে রাখতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে। পাঁচবার নির্বাচিত এই সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া কি এসব হয়?”

   

About

Popular Links

x