জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহে পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় মা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ পৌর এলাকার আব্দুর রশিদের স্ত্রী লাকী আক্তার (৪০) ও তার ছেলে রাজু আহমেদ (১৪)। অন্যদিকে মেলান্দহের কোনামালঞ্চ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে জুনাইদ (১৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র। সে হাজরাবাড়ী রেখিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কোনা মালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
দেওয়ানগঞ্জে এ ঘটনায় রাজুর দাদি বুলি বেগম (৬০) আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে আব্দুর রশিদের বসতঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তার ছেলে রাজু সংযোগটি মেরামত করতে গেলে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।
এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা লাকী আক্তার তাকে স্পর্শ করলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। এরপর পুত্রবধূ ও নাতিকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে দাদি বুলি বেগমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে প্রতিবেশীরা তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই লাকী আক্তার ও রাজুর মৃত্যু হয়। আহত বুলি বেগমকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।“
অন্যদিকে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, মঙ্গলবার মাদ্রাসা ছুটির আগেই জুনাইদ বাইরে খেলতে যায়। পরে মাদ্রাসা ছুটি হলে কর্তৃপক্ষ কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করে চলে যায়।
তিনি বলেন, “জুনাইদ তার বই নেওয়ার জন্য মাদ্রাসার একটি কক্ষে চালের নিচ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।“



