Tuesday, September 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ক্যান্টিনবয়, আদালতে জবানবন্দিতে বললেন ‘সম্মতিতে সম্পর্ক’

আদালত পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর ট্রেন “কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস” এর খাবারের ক্যান্টিনে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিক (২২) আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শিল্পী দাসের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে ওই নারীর সঙ্গে সম্মতিক্রমে শারীরিক সম্পর্কের দাবি করেছেন। পুলিশের আদালত পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম এবং সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ সূত্র জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা ওই নারী ভুলবশত নির্ধারিত ট্রেনের বদলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে উঠে পড়েন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, দুই পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় তিনি ফোনে বিষয়টি তার সন্তানকে জানান, এবং তার ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।

রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনে থাকা অবস্থাতেই ওই নারীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে। পরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশনে নামিয়ে দুজনকে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়, যেখানে ওই নারী আবু বক্করের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে আবু বক্কর ধর্ষণের দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, দুই পুলিশ সদস্য প্রথমে ওই নারীকে সন্দেহভাজন মনে করে তল্লাশির জন্য ক্যান্টিনে নিয়ে আসেন, পরে কিছু না পেয়ে তাকে পূর্বের বগিতে পাঠিয়ে দেন। এরপর ওই নারী পুনরায় ক্যান্টিনে ফিরে আসেন এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সেখান থেকে যাননি বলে তিনি দাবি করেন। এই পরিস্থিতিতে দুজনের মধ্যে সম্মতিক্রমে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বলে তিনি আদালতে বলেছেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্তের এই বক্তব্য এখনো আদালতে প্রমাণিত সত্য নয় তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হবে।

এজাহারে ওই নারী ট্রেনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে ডেকে ক্যান্টিনে নিয়ে দরজা বন্ধ করে আলো নিভিয়ে প্রথমে দুই পুলিশ সদস্য তার শ্লীলতাহানি করেন, এরপর তাদের উপস্থিতিতেই ক্যান্টিনবয় তাকে ধর্ষণ করেন।

তবে রেলওয়ে পুলিশের ভাষ্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, টিকিটবিহীন ও সন্দেহজনক আচরণের কারণে ওই নারীকে ক্যান্টিনে নিয়ে অন্য এক নারী যাত্রীর মাধ্যমে দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করানো হয়, কিছু না পেয়ে তাকে পূর্বের আসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ দাবি করেছে, তারা তার গায়ে হাত দেয়নি এবং গ্রেপ্তারকৃত ক্যান্টিনবয়ও জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য দিয়েছেন।

পাকশি রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, “ওই নারী প্রথমে ৯৯৯ এ ফোন করে সহায়তা চাওয়ার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। উদ্ধারের পর থানায় তার ছেলে জানান, পুলিশ তল্লাশির সময় তার সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়েছে তবে এজাহারে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ভিন্ন অভিযোগ করেছেন এবং ধর্ষণের অভিযোগ আনেননি।“ তিনি বলেন, “মামলা যেহেতু হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।“

টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে একজন সার্কেল এএসপির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

   

About

Popular Links

x