ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মাদ্রাসার চার শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) শিশুর বাবা বলেন, “সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় তার সাত বছর বয়সী ছেলে পড়াশোনা করে এবং সেখানেই আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে থাকে।”
তিনি বলেন, “ছেলে বাড়িতে এলে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মনমরা হয়ে থাকতে দেখা যেত। সে ঠিকমতো কথা বলত না এবং খাবারও খেত না। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো মাদ্রাসার পড়াশোনার চাপের কারণে সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছে না। তাই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেইনি।”
তিনি আরও বলেন, “পরে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, সেখানে শিশু শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে এবং কয়েকদিন আগে এ নিয়ে মাদ্রাসায় বিচারও হয়েছে।”
এরপর তিনি ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত ১৪ আগস্ট ওই শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানায় বলে দাবি করেন তার বাবা।
তার অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার ছেলেকে ধর্ষণ করেন।
এরপর তিনি মাদ্রাসার পরিচালক জিয়া বিন কাশেমের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ওই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিচিত এক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তার বাবা। ওই চিকিৎসক শিশুকে পরীক্ষা করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। গত ১৮ আগস্ট শিশুকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই দিনই শিশুকে ওসিসিতে নেওয়া হয় এবং সেখানে চার দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান তার বাবা।
পরে পরিচিত এক আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত শিশুর জবানবন্দি গ্রহণ করে সাভার মডেল থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গত ২৬ আগস্ট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। তবে এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিশুর বাবা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সামিরুল হাসান বলেন, “শিশুকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “মামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তিনি জানান, যেহেতু আদালতের নির্দেশে মামলাটি হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “বাদী চাইলে সরাসরি থানায় এসে মামলা করতে পারতেন।”
তিনি আরও বলেন, “সরাসরি থানায় মামলা হলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকত। তবে এখন তারা পালিয়ে গেছেন। আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।”



