জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরুর আগে রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমাদের দাবি স্পষ্ট। জনগণ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে ভুগছে। কিন্তু তারপরও তাদের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফিরবো।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “এ লংমার্চ আপামর জনতার। সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেয়, তাহলে সব বাধা উপেক্ষা করে আমরা চট্টগ্রামে পৌঁছাব এবং ১১ দলের ছয় দফা দাবি এক দফায় রূপ নেবে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে, তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।”
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং জনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।”
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।
লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পথসভা হবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডে। এরপর কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মিরসরাইয়ে পথসভা হবে। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চের বহরে কতটি গাড়ি থাকবে, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে গাড়ির সংখ্যা ৫,০০০-৬,০০০ থেকে কমিয়ে প্রায় ১,০০০ করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে লংমার্চের গাড়িবহর চলবে, যাতে অন্য পাশ দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল করতে পারে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও তারা বৈঠক করেছেন।
এ কর্মসূচির পর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে।