জুলাই অভ্যুত্থানকে বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট, চবি শিক্ষক বরখাস্ত

জুলাই অভ্যুত্থানকে অবমাননা ও বিদ্রুপ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে এবং ইতিহাস বিভাগের তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানিয়েছেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের জুলাইয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ১২ জুলাই উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল আমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননা ও বিদ্রুপ করার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য আরেকটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।”

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, “ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে স্থায়ী এবং একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে র‍্যাগিংকে কেন্দ্র করে দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ওই অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দর্শন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

পরে দুই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও তাতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমের লাঠির আঘাতে ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাশরাফি মুনওয়ার মাহী আহত হন। তার বাম হাতের হাড় ভেঙে যায় বলে চিকিৎসকেরা জানান। ১১ আগস্ট মাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।