ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশের কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার স্বল্প নোয়াগাঁও স্কুল মাঠ ও আশপাশের এলাকায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে স্বল্প নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে স্বল্প নোয়াগাঁও গ্রামের শুভ এবং নতুন হাবলি গ্রামের রামিমের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টর্চলাইট জ্বালিয়ে চলা এ সংঘর্ষ রাত ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
এতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক এবং দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তিনি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইটপাটকেলের হামলার শিকার হয়েছেন। পরে এলাকার সাহেব-সর্দাররা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহযোগিতা করেন।”
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলার বিশিষ্ট সালিশকারক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, “বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তারা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন।”
তিনি বলেন, “আজ রাতেই দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় বৈঠকে বসব। বিষয়টি দ্রুত মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।”