বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল পাস

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের প্রস্তাব সংবলিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

আইনটি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান র‍্যাব কাঠামো ভেঙে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী এসআরবি তাদের প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ ইতোমধ্যে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে বিলটি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘সমাজের চাহিদা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিট কিংবা বাহিনীতে পরিবর্তন আনতে হয়। সেজন্য আমরা এটা করছি। একটি সংস্থা গঠনের সঙ্গে আরেকটি বিলুপ্তির সম্পর্ক নেই। নতুন বাহিনীটা আমরা এ কারণে করছি যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে র‍্যাব গঠন করা হয়েছিল। সেই আইনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে ইউনিটটি কাজ করছিল।'’

'সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা এটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একইসঙ্গে এই আইনে ইংরেজিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, সেই আইনটাও আমরা অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি,' বলেন তিনি।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক করা হবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে।