নাটোরে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা। হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ১০৬ জন ডায়রিয়ার নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং নারী ও শিশু রয়েছেন ৪৭ জন। রোগীর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় শয্যা সংকটে অনেককে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নাজমা বেগম নামের চিকিৎসাধীন এক নারী বলেন, “বুধবার সকালে খাবার খাওয়ার পর থেকেই আমার পাতলা পায়খানা, বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। পরে দেখি আমার শাশুড়িরও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এরপর আমার ননদরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা সবাই সাপ্লাই পানি ব্যবহার করি। ওই পানি থেকেই হয়তো এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।”
নাটোর শহরের কানাইখালি এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, প্রথমে এক-দুইবার পাতলা পায়খানা হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। হাসপাতালে এসে দেখি আমার এলাকার আরও অনেক মানুষ একই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সবারই পাতলা পায়খানার উপসর্গ রয়েছে। অসুস্থতার কারণে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে নাটোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।”
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সাধারণত এ মৌসুমে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এবার রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। গত এক সপ্তাহে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার একদিনেই ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন। এছাড়া নতুন রোগী আসার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, “রোগীদের উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বেশি রোগী আসার তথ্য পাওয়া যায়নি। শহরের প্রায় সব এলাকা থেকেই রোগী আসছেন, পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা থেকেও আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।”
সিভিল সার্জন আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নতুন করে স্যালাইন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও স্যালাইন সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।