সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ

কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটক হওয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৪৭ জন বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ। বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে আনা হয়। এর মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছে। এরা দেশের সাতক্ষীরা, নারায়গঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, চাঁদপুর, নড়াইল ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফেরত আসারা বেকারত্ব দূর করতে কাজের সন্ধানে বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এরা তামিলনাড়ু রাজ্যের আতুর সালেম, থিরুচিরাপ্পাল্লি ও ট্রিচি নামক সেফ হোমের হেফাজতে ছিল। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাই করে ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর পর তাদের ফিরিয়ে আনা হলো।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে ফেরত আসা এসব নারী-পুরুষকে  হস্তান্তর করে। এ ছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিল।

ফেরত আসা আজিজুর রহমান জানান, বেকারত্ব দূর করতে অবৈধ পথে ভারতের তামিলনাড়ু যান। সেখানে ক্ষেত খামারে কৃষি কাজ এবং ইট ভাটায় কাজ করার সময় সেখানকার পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এক পর্যায়ে আদালত তাদের সাজা দেয়। সাজা শেষে আজ দেশে ফিরে আসলাম।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষদের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ও রাইটস যশোর নামে দুটি এনজিও সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।