১২৪টি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এবং কুষ্টিয়া জেলখানা থেকে পলাতক আসামি মো. আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কুমারখালী থানা পুলিশ। বিশ্বাস ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিওর মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও র্যাবের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে কুমারখালী থানা পুলিশ।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আনিছ। এর আগে আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলেও গত ৭ আগস্ট তিনি জেল থেকে পালিয়ে যান। এবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে।
কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে আনিছুর রহমান ২০০৬ সালে আলাউদ্দিন নগর এলাকায় "বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড" নামে একটি এনজিও চালু করেন। পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় কয়েকশ শাখা খোলেন তিনি। দ্বিগুণ টাকা ফেরতের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদি ডিপিএসের নামে মোটা অঙ্কের টাকা জমা নেন তিনি। এভাবে কয়েকশ কোটি টাকা জমা হলে তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন আনিছ।
২০২৩ সালের নভেম্বরে কর্মীরা টাকার জন্য চাপ দিলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের শুরুতে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা হয়, যার মধ্যে ১২টিতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও হয় তার।
২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় পাঠানো হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে আনিছুরসহ ১০৪ জন আসামি পালিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুমারখালী থানায় ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
রাজবাড়ীর পাংশার আব্দুল মাজেদ (৬৪) জানান, সারা জীবন গার্মেন্টসে চাকরি করে জমানো সাড়ে ১ লাখ টাকা চার বছরে দ্বিগুণ লাভের আশায় আনিছের এনজিওতে রেখেছিলেন তিনি। দুই বছরের মাথায় সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যান আনিছ।
শিলাইদহের জাহানারা খাতুন জানান, চাকরির বেতন, বোনাস, জমির ইজারা ও গরু-ছাগল বিক্রির টাকাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন আনিছকে, যার পুরোটাই মেরে দিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এনজিওর নামে আনিছ প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
আনিছের ভাগনি বিনা খাতুন জানান, দ্বিগুণ লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলেন তিনি, এখন সব শেষ। তার ভাষ্যে, হয় টাকা ফেরত দেওয়া হোক, নয়তো তার ফাঁসি হোক।