Thursday, September 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘পিএম অফিসের কর্মকর্তা’ পরিচয়ে ফ্ল্যাটের ফাঁদে প্রতারণা, হরিদাস ২ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিকেতনে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরনী ওরফে সঞ্জিত ওরফে তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি চেক উদ্ধারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এজাহার ও রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, আসামি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন। সহযোগীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ফ্ল্যাটের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। এই কৌশলেই রাজধানীর নিকেতনে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মামলার বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়।

মামলাটি গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় দায়ের করা হয়। বাদী আসামির কলেজজীবনের বন্ধু বলে জানা গেছে, যদিও রিমান্ড আবেদনে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিকেতনের ওই ফ্ল্যাটের দাম ধরা হয় ৮০ লাখ টাকা। বাদী নগদ, বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে ফ্ল্যাটের কাজ শেষ করার কথা বলে আরও ১৫ লাখ টাকার দুটি চেক নেওয়া হয়।

কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হতে থাকে। একপর্যায়ে বাদী জানতে পারেন, তার জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাটটি ইতিমধ্যে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

পুলিশ জানায়, তদন্তে আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তার সহযোগী অন্য আসামিরা এখনো পলাতক। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি চেক উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ রানা জানান, আসামি বর্তমানে একই থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতকদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শুনানি শেষে আদালত পুলিশের সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

   

About

Popular Links

x