Thursday, September 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রয়টার্স: বাংলাদেশে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের কারণ টিকা কর্মসূচিতে ব্যাঘাত 

দ্রুত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু টিকাদানে ঘাটতি ও নিয়মিত টিকা কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কারণে এখন দেশটি হাম রোগের ভয়াবহতম প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। দেখা দিয়েছে শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। একই সঙ্গে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আসার সংখ্যা বাড়ছে। 

এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের পর থেকেই শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ওই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। 

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং টিকা সরবরাহে সমস্যার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই বয়সে নিয়মিত হাম টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৫। হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯, যার মধ্যে ১০০টি মৃত্যু পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পেছনে দুর্বল কর্মসূচি তদারকি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে টিকা সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

সোমবার সংসদে তিনি বলেছেন, ‘‘টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।’’ 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছে। 

রোগতত্ত্ববিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘‘২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানে ঘাটতির কারণেই বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এর আগে কখনো এত বেশি সংখ্যক শিশুর হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায়নি। একই বছরে এত বেশি রোগীও কখনো দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশই শিশু।’’ 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, টিকাদান বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

   

About

Popular Links

x