সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরে চুরির অভিযোগে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে টানাহেঁচড়া ও নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে শাহপরান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।
সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটকরা হলেন—শাহজালাল উপশহরের সি-ব্লক এলাকার জাকির হোসেন (৪৩), তার ভাই মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার বুরহান উদ্দিন (৪৫)।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। শাহজালাল উপশহরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেটের একটি দোকানে ‘চুরির চেষ্টা’ করার অভিযোগ ওঠে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকজন বাসিন্দা তাকে আটক করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর কিশোরীকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কোমরে পরানো হয় শিকল। রাত ১১টার দিকে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীর কোমরে শিকল বাঁধা। একজন ব্যক্তি সেই শিকল ধরে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। কিশোরী কাঁদছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুতই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ওই কিশোরীকে শাহপরাণ থানা পুলিশের কাছে নিয়ে যান। তবে চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ না করায় পুলিশ তাকে মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনের ২০০৯ এর ৮৯ ধারায় আদালতে পাঠায়।
পাশাপাশি কিশোরীকে শিকল পরিয়ে রাস্তায় হাঁটানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়।



