রাজধানীর লালবাগ থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর এক ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার কক্ষের পাশের বারান্দার মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রনি খিলগাঁওয়ের শেখদী এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তিন লাখ টাকা সুদে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওয়াসিম রনির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনে অভিযান শুরু করে লালবাগ থানা পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ব্যবসায়ী ওয়াসিম রনি নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় জিডি করেন তার স্বজনরা। সেই জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ রনির বন্ধু মাসুমকে আটক করে। পরে মাসুমের দেখানো মতে তার বাসার পেছন থেকে মাটিতে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় রনির লাশ উদ্ধার করা হয়।”
নিহতের স্বজনরা জানান, ওয়াসিম রনি ব্যবসা করতেন। আটক মাসুম চৌধুরী ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবনের পাশ থেকে ওয়াসিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের কারখানা ছিল।
মাসুমের দুলাভাই দাবি করেন, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন মাসুম। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। পরে মূল টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে মাসুমের বিরোধ চলছিল।
পুলিশ জানায়, রনি নিখোঁজের পর মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে তার বন্ধু মাসুমকে সন্দেভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি রনিকে হত্যার পর মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, জিডি করার সময়ে মাসুম থানায় এসেছিলেন। জিজ্ঞেসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার কাছে শেখ ওয়াসিম রনি তিন লাখ টাকা পেতেন। ওই টাকার জন্য চাপ দিতেন রনি। তাই মাসুম টাকা দেওয়ার কথা বলে রনিকে নিয়ে তার বাসায় যান। পরে প্রথমে মাথায় আঘাত করে নিচে ফেলে হাত-পা বেঁধে মুখে পলিথিন পেচিয়ে তাদের বাসার নিচে ফাঁকা স্থানে দুই ভবনের ফাকে বালু মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।
নিহতের স্ত্রী নুসরাত জাহান সীমা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।