নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে সদ্যোজাত এক ছেলেশিশুকে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় লোকজন শিশুটির মা, নানি, এক প্রবীণ নারী ও অটোরিকশাচালককে আটক করেন। পরে ডাস্টবিন থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে মা ও নবজাতককে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক চারজনের মধ্যে নবজাতকের মা একজন কিশোরী। বাকি তিনজন হলেন শিশুটির নানি (৩৫), এক নারী (৬০) এবং অটোরিকশাচালক (৩৫)। কিশোরী মাকে শিশুর সঙ্গে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে কিশোরীকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই অটোরিকশার ভেতরে শিশুটির জন্ম হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শিশুর জন্মের পর অটোরিকশাটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে সামনের একটি ডাস্টবিনের কাছে থামানো হয় এবং সেখানে শিশুটিকে ফেলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নজরে আসামাত্র আশপাশের মানুষ অটোরিকশার গতিরোধ করেন এবং ডাস্টবিন থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে অটোরিকশায় থাকা চারজনকে আটক করে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সূত্রে জন্ম নেওয়া এই সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না শিশুটির বাবা। মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অটোরিকশাতেই সন্তান প্রসব হয়, এরপর নবজাতককে পাশের ডাস্টবিনে ফেলে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয়রা তাদের আটকে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে স্থানীয় একজনের দায়িত্বে নবজাতক ও তার মাকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠায়।
ওসি আরও জানান, এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এ বিষয়ে থানায় কোনো প্রতিকার চায়নি। আইনি সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তা দিতে প্রস্তুত ছিল।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শওকত আল ইমরান ইমরোজ বলেন, “স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় নবজাতক ও তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য মা ও নবজাতককে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”